35 দিন
17 ঘন্টা
50 মিনিট
39 সেকেন্ড
আরপিএমপি সংবাদ
পুলিশ কমিশনারের বাণী


সময়ের চাহিদা বিবেচনায় মেট্রোপলিটন পুলিশের গুরুত্ব ও কার্যকারিতা অনুধাবন করে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য উত্তরসূরী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় বাংলাদেশ পুলিশের নবগঠিত ইউনিট রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বাস্তবরূপ লাভের এ মাহেন্দ্রক্ষণে সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে, যাঁর প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ ব্যতীত আজকের এই রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের জন্ম ছিল সুদূর পরাহত। তিনি সময়ের পরিক্রমায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠনের যে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৮ সালে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ আইনগত ভিত্তি লাভ করে।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণসহ কতিপয় ক্ষেত্রে সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। যার ফলে তিনি তার অধিক্ষেত্রের মধ্যে সংঘটিত যে কোন উদ্ভূত বিরুপ পরিস্থিতিতে আইনগত বিষয়ে সরাসরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে পারেন।

মেট্রোপলিটন এলাকায় কর্মসংস্থানের বৃহৎ পরিসর। অনুমিতভাবেই জনসংখ্যার ঘনত্ব এখানে অনেক বেশি। বৃহৎ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরতঃ আইন-শৃঙ্খলা সমুন্নত রাখতে মেট্রোপলিটন পুলিশে নিয়োজিত করা হয় জেলা পুলিশের তুলনায় অধিক সংখ্যক অফিসার ও ফোর্স। ফলশ্রুতিতে ঊর্ধ্বতন অফিসারগণ সরাসরি মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত অফিসার ও ফোর্সকে নিবিড় তদারকির পাশাপাশি তাদের সঠিক দায়িত্ব পালনে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন।

পর্যাপ্ত জনবল ও অপারেশনাল সরঞ্জামাদি থাকার কারণে মেট্রোপলিটন পুলিশ যে কোন সমস্যাকে দ্রুত চিহ্নিত করতঃ ত্বড়িৎ আইনগত সমাধানের মাধ্যমে মহানগরীর আইন-শৃঙ্খলা সমুন্নত রাখার পাশাপাশি জনসাধারণের জান-মালের নিরাপত্তা বিধানে অধিক সক্ষম।
     
মেট্রোপলিটন এলাকায় সচেতন নাগরিকেরা স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে মহানগর পুলিশকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ ও সহায়তা প্রদান করে থাকেন। এছাড়াও অনগ্রসর ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সেবা প্রদান নিশ্চিত করা সম্ভব। মহানগর পুলিশ নগরবাসীর সাথে Face to Face যোগাযোগ রক্ষা করতঃ দ্রুত সমস্যা নিরসনে তৎপর হতে পারেন।

মেট্রোপলিটন এলাকা মূলত একটি নিদির্ষ্ট ভৌগলিক সীমাকে কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে চিহ্নিত করে। মহানগর পুলিশ স্থায়ী কিংবা দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে নাগরিকদের পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে অপরাধ নির্মূল ও আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করে থাকে।

মেট্রোপলিটন পুলিশ ব্যবস্থায় জন-অংশীদারিত্বমূলক পুলিশিং প্রাধিকার দেয়া হয় বিধায় যে কোন সমস্যা নিরসনে নাগরিকের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। পুলিশ ফোর্স হতে পুলিশ সার্ভিসে রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় মহানগর পুলিশী ব্যবস্থা অতীব গুরুত্বপূর্ণ।

ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার, সাইবার সেন্টার, বিশেষায়িত জনবল যেমন: সোয়াট, বোম্ব Disposal unit ইত্যাদির সমন্বয়ে গঠিত মেট্রোপলিটন পুলিশ ইউনিট অনেক বেশী স্বয়ংসম্পূর্ণ।


মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বের একটি রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপযুক্ত দিক নির্দেশনায় বাংলাদেশ পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ফলশ্রুতি আজকের রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ, যার ভিত্তি শৃঙ্খলা, আস্থা ও প্রগতি।

আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, প্রায় ২৪০ বর্গকিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট অধিক্ষেত্রের রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ নিশ্চিতভাবেই রংপুরবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করে সকল নাগরিক সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করবে।


রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ স্বাধীনতার চেতনা সমুন্নত রেখে, পেশাগত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের দীর্ঘ দিনের অর্জিত সাফল্য ও সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে সর্বদা দৃঢ় পদক্ষেপে তৎপর থাকবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করে এখানেই আমার বক্তব্য শেষ করছি।

সকলকে ধন্যবাদ।